Shaikhul Hadith Mufti Abdur Rahman

প্রিন্সিপাল ও শাইখুল হাদিস

Shaikhul Hadith Mufti Abdur Rahman

شيخ الحديث المفتي عبد الرحمن

শাইখুল হাদীস মুফতি আব্দুর রহমান

Principal and Shaikhul Hadith of Monuhorpur Anwarul Uloom Madrasa, Kulaura. Lead scholar for the Ask-the-Principal Q&A programme.

প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকা

Role at Anwarul Uloom

As Shaikhul Hadith and Principal, he leads scholarly guidance, curriculum, and Hadith instruction at Anwarul Uloom Madrasa — serving students and the wider community of Sylhet with sincerity and wisdom.

জীবনী

জীবন এবং শেখার

শায়খুল হাদিস মাওলানা আব্দুর রহমান মনোহরপুরী দা:বা:।

বরেণ্য আলেম, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ, মুফতি ও মুফাসসির, মিডিয়া আলোচক শায়খুল হাদীস মাওলানা মুফতি আব্দুর রহমান মনোহরপুরী দা. বা.

জন্ম

প্রখ্যাত এ মুহাদ্দিস মৌলভীবাজার জেলার অন্তর্ভুক্ত কুলাউড়া উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে ২২ আগস্ট ১৯৬৫ সনে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর সম্মানিত পিতা মরহুম কারী আব্দুল মন্নান সাহেব ছিলেন আপাদমস্তক একজন আল্লাহওয়ালা বুযূর্গ। ছোটবেলায় নানা প্রতিকূলতার কারণে নিয়তান্ত্রিকভাবে দাওরায়ে হাদিস পাশ না করলেও দ্বীনের প্রতি অগাধ পান্ডিত্ত ছিলো তাঁর। বহু বুযুর্গানে কেরামের সান্নিধ্য লাভে ধন্য ছিলেন।

তাঁর সম্মানিতা মাতাও অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত ও দ্বীনদার-পরহেজগার পরিবারের মেয়ে।

শিক্ষাজীবন

স্বীয় পিতার কাছে পড়ালেখার হাতেখড়ি। অতঃপর মনোহরপুর মক্তবে হযরত মাওলানা আব্দুল মজিদ শায়খে দাউদপুরী রহ. এর হাতে ইলমে দ্বীন শিক্ষার সূচনা হয়।

পরবর্তীতে ১৯৭১ সনে হযরত মাওলানা আব্দুল মজিদ দাউদপুরী রহ. মনোহরপুর আনোয়ারুল উলুম মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করলে উক্ত মাদরাসায় ভর্তি হয়ে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন।

১৯৭৫ সালের রমজান মাসে তিনি নানার বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। তাঁর নানা বাড়ি ঐতিহ্যবাহী একটি বাড়ি ছিল। এই বাড়িতে প্রতিবছর দ্বীনি মাহফিল হত। বড়বড় বুযূর্গানে কেরাম সেসব মাহফিলে উপস্থিত হতেন। নানাবাড়ির পাশেই মাওলানা সিকান্দার আলী ইসমাঈলপুরি রহ. এর প্রতিষ্ঠিত ফয়েজ আম ইসমাইলপুর মাদরাসায় প্রতি বছর রমজান মাসে ‘সারফ-নাহুর’ বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন হতো। তাঁর বড়মামা মাওলানা আহমদ আলী সাহেব সে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেছিলেন। মামার সাথে একদিন তিনিও প্রশিক্ষণে গেলে প্রথম দিনই সরফ-নাহুর ইমাম খ্যাত আল্লামা ইসমাঈলপুরী রহ. এর নজর কাড়তে সক্ষম হন। ইসমাঈলপুরী রহ. তাঁর মেধা ও প্রতিভা দেখে মুগ্ধ হয়ে পরের দিন থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণে নিয়ে আসার জন্য তাঁর মামাকে জোর তাগিদ দেন। খুদা প্রদত্ত অবিশ্বাস্য মেধা ও মেহনতের মাধ্যমে রমজানের অল্প কয়েকদিনেই তিনি ইলমে সরফের উপর ভূৎপত্তি লাভ করেন।

তাঁর মামা মাওলানা আহমদ আলী সাহেব সিলেটের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি বিদ্যাপিঠ জামেয়া তাওয়াক্কুলিয়া রেংগায় লেখা-পড়া করতেন। তখনকার সময়ে সেখানে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ছিলো রেলগাড়ি। রেলগাড়ি চড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহের কারণে বাল্যছলে তিনি মামার সাথে জামেয়া রেংগায় ভর্তি হতে বায়না ধরেন। মূলত রেলের এই মহব্বতই তাঁকে রেঙ্গা মাদরাসায় নিয়ে যায়।

ভর্তি পরীক্ষার জন্য তাঁকে জামেয়ার শাইখুল হাদিস আল্লামা শিহাব উদ্দিন রহ. এর কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। মুহাদ্দিস সাহেব হুজুর ভর্তি পরিক্ষায় সরফ সংক্রান্ত যে কয়টা প্রশ্ন করেছিলেন প্রত্যেকটার সুচারু জাওয়াব শুনে একেবারে মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন — ‘তার সরফ একদম ঠিক আছে, তাকে নাহবেমীরে ভর্তি দেওয়া হোক।’

সে থেকেই জামেয়া রেংগায় পড়ালেখার শুরু। একাটানা নাহবেমীর থেকে দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে পড়ালেখা করে নাহু, বালাগাত, মানতিক, ফিকহ, তাফসির, হাদিসসহ ইলমের বিভিন্ন ‘ফনে’ বিশেষ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। প্রতিটি ক্লাসেই প্রথম স্থানটি তাঁর জন্য অঘোষিতভাবেই নির্ধারিত থাকতো।

পরিশেষে ১৯৮৪/৮৫ ইং মোতাবেক ১৪০৬ হিজরী সনে তাকমীল ফিল হাদিস সমাপ্ত করেন এবং সমগ্র বোর্ডের সম্মিলিত মেধাতালিকায় অতিতের ন্যায় প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন।

অতঃপর স্বীয় উস্তাদদের পরামর্শ ক্রমে উচ্চশিক্ষার জন্য আল-জামেয়াতুল আহলিয়া মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসায় ভর্তি হন এবং সেখানে হাদিস এবং ইফতা বিভাগে অধ্যয়ন করে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন।

কর্মজীবন

শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবনের সুচনা।

বর্তমানেও শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। সবচেয়ে বড় কথা — তিনি নিজেকে একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে তৈরী করতে সক্ষম হয়েছেন। ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত জামেয়া তাওয়াক্কুলিয়া রেংগা মাদরাসায় অধ্যাপনা করেন। অতঃপর জামেয়া মাদানিয়া কাজিরবাজার মাদরাসা ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত অত্যন্ত স্বনামধন্য সিনিয়র শিক্ষক মুহাদ্দিস ও মুফতি হিসেবে খেদমতরত ছিলেন। পুনরায় ২০০১ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত (সর্বমোট ১০ বৎসর) শায়খুল হাদীস ও মুফতী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তার মধ্যখানে জামেয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম দেউলগ্রাম মাদরাসায় ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ছয় বৎসর প্রধান শায়খুল হাদীস ও মুফতী হিসেবে খেদমত আঞ্জাম দেন।

তারপর ২০০৩ সালের ৬ এপ্রিল লন্ডন চলে যান। সেখানে জামেয়া মদীনাতুল উলুম প্লাস্টো লন্ডন মাদরাসায় প্রধান শায়খুল হাদীস ও মুফতী হিসেবে ২০০৩ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত খেদমতে ছিলেন। একই সাথে বায়তুর রাহমান মেনর পার্ক মসজিদের প্রধান ইমাম ও খতিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

তারপর ২০০৭ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত দারুল উলুম ফোর্ড স্কোয়ার (লন্ডন ইসলামিক স্কুল এন্ড মাদরাসায়) প্রধান শায়খুল হাদীস ও মুফতী হিসেবে কর্মরত আছেন। একই সাথে ২০০৭ সাল থেকে ২৪-০৮-২০২৩ পর্যন্ত মেনর পার্ক শাহজালাল মসজিদ লন্ডনের প্রধান ইমাম ও খতিব হিসেবে অত‍্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব আন্জাম দিয়েছেন। বর্তমানে জামেয়া দারুস সুন্নাহ জামে মসজিদ এবং আল রাওজা জামে মসজিদ সহ লন্ডনের প্রধান মসজিদ গুলোতে জুমআর ইমাম ও খতীব হিসাবে বিশেষ খেদমত পালন করছেন। তারসাথে ২০১৯ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত জামিয়া রওজা মহিলা মাদরাসা এবং ত্বাহায়ী ইনিসটিটিউট মাদ্রাসা সমুহে শায়খুল হাদীস ও মুফতী হিসাবে খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন।

তাছাড়াও তিনি একজন মিডিয়া আলোচক হিসেবে বেশ সুনাম অর্জন করেছেন। ইকরা বাংলা ইসলামিক টিভির রেগুলার প্রোগ্রাম ‘আলোর দিশারী’ লাইভ আলোচনা ও প্রশ্ন-উত্তর পর্ব এবং হাদিসের প্রোগ্রাম নিয়মিত করছেন।

বিভিন্ন দায়িত্ব

লন্ডনের খিদমা একাডেমীর দীর্ঘদিন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ — ইউকের আমীর এর মহান দায়িত্বে নিয়জিত থেকে ইউকে অবস্তানরত দলমত নির্ভিশেষে সর্বস্তরের উলামায়ে কেরামের নেত্রিত্ব প্রদান করে জাচ্ছেন। নিজ এলাকার আনোয়ারুল উলুম মনোহরপুর মাদরাসা মৌলভীবাজারের প্রিন্সিপালের গুরু দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

দারুল ইফতা লন্ডনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান — যার মাধ্যমে বৃটেনের মাঠিতে দারুল ইফতার এক নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়।

তাফসীর

তিনি দীর্ঘ ১২ বছর ধরে নিজ মসজিদে ধারাবাহিকভাবে সমগ্র পবিত্র কোরআনের তাফসির সম্পন্ন করেন এবং ছয় বছরে দরসে ফিকহ ও ইফতাহ সমাপন করে একজন বাঙালি আলেম হিসেবে লন্ডনে বিরল খ্যাতি অর্জন করেন। এ উপলক্ষে লন্ডনে সম্মিলিত উলামায়ে কেরামের পৃষ্ঠপোষকতায় ২৪ আগস্ট ২০১৯ ইং তারিখে একটি জমকালো অনুষ্ঠান করে তাঁকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। উক্ত অনুষ্টানে দেশ-বিদেশের বরেণ্য আলেম উলামা উপস্থিত ছিলেন।

ফতোয়া

জামেয়া রেংগায় ছাত্র থাকা অবস্থায়ও আল্লামা কুতুব উদ্দিন জাহানপুরি রহ. এর সাথে ফতোয়ার কাজে নিয়োমিত সহযোগিতা করতেন। তখন থেকেই ফতোয়ায়ে শামী, ফতোয়ায়ে আলমগীরী, ফতোয়ায়ে কাজীখানসহ বেশকিছু ফতোয়ার কিতাবের সাথে সখ্যতা গড়ে উঠে। অতঃপর জামেয়া কাজিরবাজার ও জামেয়া দেওলগ্রামে অধ্যাপনাকালে ফতোয়ার মূল কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন। পরবর্তিতে লন্ডনে যাওয়ার পর অধ্যাপনার পাশাপাশি ফতোয়ার গুরু দায়িত্ব তাঁর কাঁধে অর্পিত হয়। যার ধারাবাহিকতায় ‘দারুল ইফতা লন্ডন’ প্রতিষ্ঠাতা করেন। প্রতি বছর মেধাবী ও প্রতিভাবান ছাত্ররা উক্ত কোর্স সম্পন্ন করে ফিকহ ও ফতোয়ার ক্ষেত্রে নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলছে। পাশাপাশি ‘দারুল ইফতা লন্ডনের’ নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের নানা জটিল ফতোয়ার সমাধান দিয়ে যাচ্ছেন।

বায়আত ও খেলাফত

তিনি শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ. এর হাতে বায়আত ছিলেন এবং পরবর্তীতে উনার খেলাফত লাভে ধন্য হন।

হজ্ব

পবিত্র হজ্ব করার প্রবল আগ্রহ তাঁকে সবসময় তাড়িত করতো। দেশ ছেড়ে সুদূর লন্ডনে যাওয়ার পেছনে বড় একটি উদ্দেশ্য ছিলো — নিজে হজ্ব পালন করা ও বাবা-মাকে হজ্ব করানো। তাই লন্ডন যাওয়ার প্রথম দিকেই বাবা-মাকে হজ্ব করানোর স্বপ্ন পূরন হয়। পরবর্তিতে নিজেও হজ আদায় করেন। এমনকি এ পর্যন্ত আট বার পবিত্র হজ আদায় করার বিরল সৌভাগ্য অর্জন করেছেন।

গত ২০১৮ তে নিজ পিতাকে নিয়ে পবিত্র ওমরা আদায় করেন। তার কিছু দিন পর তাঁর সম্মানিত পিতা ইন্তিকাল করেন।

বর্তমান

বর্তমানে এই কীর্তিমান ব্যাক্তিত্ব লন্ডনে বহুমুখী খেদমতের মাধ্যমে ব্যাস্ত সময় পার করছেন। এছাড়াও দেশে যখন আসেন তখন বিভিন্ন ইসলামী মাহফিল এবং বিভিন্ন মাদরাসা-মসজিদে গুরুত্বপূর্ণ নসিহত এবং বক্তব্য প্রদান করে থাকেন।

তিনি একজন প্রথিতযশা আলেম হিসেবে লন্ডনে মুসলিম কমিউনিটির মধ্যমনি হয়ে আছেন। বাঙালী আলেম হিসেবে পুরো ইউরোপ জুড়ে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন এবং অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে ইংল্যান্ডের খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন।

আমরা তাঁর দীর্ঘ হায়াত কামনা করছি! আমীন।

Topics he answers

অধ্যক্ষ প্রায়শই যে অঞ্চলগুলিতে লিখেছেন।

Latest answers

Recent Q&A

ভাষা অনুসারে গোষ্ঠীবদ্ধ উত্তর প্রকাশ করা হয়েছে। সম্পূর্ণ উত্তর পড়তে একটি প্রশ্ন আলতো চাপুন.